রূপপুরের পরমাণু বর্জ্য নিতে চুক্তিতে রাশিয়া

বুধবার মস্কোতে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচোভ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন।রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চুক্তি হয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের। অ্যাটমস্ট্রয় রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ার ফেরত নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে এবিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ না থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।

এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় সই হল এই চুক্তি।

রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তি সইয়ের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, “চুক্তিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির স্পেন্ট ফুয়েল ট্রিটমেন্ট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত রুশ পারমাণবিক জ্বালানি থেকে প্রাপ্ত ‘স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তেজস্ক্রিয় জ্বালানির বর্জ্য রাশিয়াকে ফেরত দিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির খসড়া গত জুন মাসে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা।

তা অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন,“রূপপুরে যে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সেই জ্বালানি যখন বর্জ্য হয়ে যাবে- সেটাকে সায়েন্টিফিক্যালি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করে নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন একটা সমস্যা। এটাকে সহজ করা হয়েছে, রাশিয়ানরা নিজেরাই নিয়ে যাবে এবং ডিসপোজাল করবে।”

রূপপুরে ১২০০ করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে; যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।

৫০ বছর আয়ুর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোসাটমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর প্রকল্পের স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল ট্রিটমেন্ট (পরিশোধন) সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Pin It