রাকায় তেলকূপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরীয় বাহিনী

base_1500218897-syria-reuters

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় রাকা প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে বেশ কয়েকটি তেলকূপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী। শনিবার রুশ বিমান হামলার সহায়তায় এ তেলকূপগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে সেনাবাহিনী। খবর রয়টার্স।

সিরিয়ায় অবশিষ্ট অঞ্চল রক্ষায় লড়াই করছে পশ্চাত্পদ আইএস যোদ্ধারা। এক সেনা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইখবারিয়াহ জানায়, সেনাবাহিনী ওহাব, আল ফাদ, দাবায়সান, আল কসের, আবু আল কাতাত ও আবু কাতাশ তেলক্ষেত্রসহ রাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমিতে অবস্থিত কয়েকটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া তেলক্ষেত্রগুলো রাসাফা শহর ও এর তেলকূপগুলোর দক্ষিণে অবস্থিত। গত মাসে জঙ্গিদের কাছ থেকে রাসাফা ও এর তেলক্ষেত্রগুলো উদ্ধার করে সেনাবাহিনী— যা প্রদেশটির অভ্যন্তরে আইএসের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রথম কোনো আঞ্চলিক বড় বিজয়।

সিরীয় সেনাবাহিনী ও ইরান সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী গত কয়েক মাসে আলেপ্পোর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময়ে তারা ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে সিরিয়ার অন্যতম শহর রাকায় আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করছে মার্কিন মদদপুষ্ট সেনাবহিনী। সিরিয়ার অন্যতম শহরটিকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছে আইএস।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সর্বশেষ এ বিজয়ের ফলে পূর্বাঞ্চলীয় হামা প্রদেশ থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস এবং রাকা ও দেইর জর প্রদেশের প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, উকাইরবাতসহ জঙ্গিদের দখলকৃত বেশকিছু অঞ্চল ও শহরকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা তীব্র করেছে রুশ বিমানবাহিনী। এর আগে চলতি বছরের মে মাসের শেষে উকাইরবাতে ভূমধ্যসাগরের একটি রণতরী থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রাশিয়া।

সিরিয়ার সেনাবাহিনী আগামীতে ইরাকি সীমান্তে অবস্থিত সুখনা শহরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দেইর জরের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। রাকার পতন ঘটলে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের সর্বশেষ বড় ঘাঁটি হবে দেইর জর।

গত কয়েক দিনে এসব অঞ্চলের পাশাপাশি প্রাচীন শহর পালমিরা জয়ের কথা জানিয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী ও এর ইরানি মিত্ররা। এখানে হাইল তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। এর মধ্য দিয়ে সুখনার ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে সেনাবাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, হাইল ও নিকটবর্তী আরাক গ্যাসক্ষেত্রের কাছে আইএসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ৪৮ ঘণ্টা ধরে তীব্র লড়াই চলছে। গত মাসে আরাক গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় সিরীয় সেনাবাহিনী।

Pin It