মোমিন হত্যা: হাইকোর্টেও দুই জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

momin

বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ এক যুগ আগের  এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল রায় ঘোষণা করে।

ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র মোমিন জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাকে হত্যার এই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন মতিঝিল থানার সাবেক ওসি এ কে এম রফিকুল ইসলাম।

রফিককে ‘রক্ষার জন্য’ পুলিশের নানা তৎপরতার কারণে মামলাটি ছিল আলোচিত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১১ সালে এ মামলার রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন দেয়।

ওই রায়ের পর কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রফিকের মৃত্যু হয়। হাই কোর্টের রায়ে বাকি সব আসামির সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।

তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়ার হয়েছে প্রাণদণ্ডের রায়। আর হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিনর হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা তাজ ও বাবু হাই কোর্টে আপিল করেছিলেন। বাকি ছয়জন পলাতক বলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনালে বশির আহম্মেদ জানিয়েছেন।

হাই কোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মোমিনের বড় ভাই সামসুল ইসলাম সুমন সাংবাদিকদের বলেন, “ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমরা বারবারই পুলিশ প্রশাসন দ্বারা প্রতারিত হয়েছি। তারা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করেছিল। এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।  অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক।”

সুমন বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসী তাজের বাহিনী এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফাঁসির আসামিদের গ্রেপ্তারে বারবার থানায় গিয়েও কোনো ওয়ারেন্ট বের করতে পারিনি।”

আসামিরা আপিল করলে সর্বোচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোমিনের ভাই।

বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর ইব্রাহিমপুরে বাসার সামনে খুন করা হয় মোমিনকে। ওই দিনই তার বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

কামরুল ইসলাম মোমিন (ফাইল ছবি) (কামরুল ইসলাম মোমিন (ফাইল ছবি)

ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর বিরুদ্ধে বাদি নারাজি আবেদন দিলে পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়।

তাতেও বাদী আপত্তি জানালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এরপর ওই বছরের ১১ নভেম্বর অভিযোগপত্র গৃহীত হয়; ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিচার শুরু হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। এ আদালতই বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় দেয়।

নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাই কোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর গত ১২ নভেম্বর হাই কোর্টে শুনানি শুরু হয়।

হাই কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এ কে এম তৌহিদুর এবং রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।

Pin It