ভিন্ন ভিন্ন দামে বিদ্যুৎ কেনা নিয়ে প্রশ্ন সংসদীয় কমিটির

জবাবে মন্ত্রণালয় বলছে, জমির দাম, যন্ত্রপাতি পরিবহন, জ্বালানি পরিবহন খরচ, ইঞ্জিনের ক্ষমতার ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন দামে সরকার বিদ্যুৎ কিনছে।

রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেয় মন্ত্রণালয়।

কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। তবে পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক যে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনবে সেগুলো হলো-

# বগুড়ার ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড, প্রতি কিলোওয়াট কেনা হবে ১০ দশমিক ৬০ সেন্ট দরে (১ সেন্ট  বর্তমানে সাড়ে ৮ টাকা)

# আশুগঞ্জের ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মিডল্যান্ড পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড; কেনা হবে ১০ দশমিক ৫০ সেন্ট দরে

# খুলনার লবনচোরায় ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওরিয়ন পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট; কেনা হবে ১০ দশমিক ৬০ সেন্ট দরে

# গাজীপুরের কোড্ডায় ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কনসোর্টিয়াম অব সামিট কর্পোরেশন লিমিটেড অ্যান্ড সামিট পাওয়ার লিমিটেড,  কেনা হবে ১০ দশমিক ৬০ সেন্ট দরে

# চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এক্রন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসের লিমিটেড; কেনা হবে ১০ দশমিক ৫০ সেন্ট দরে

# চাঁদপুরে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশ এনার্জি লিমিটেড; কেনা হবে ১০ দশমিক ৬৫ সেন্ট দরে

# কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাংলা ট্রেক লিমিটেড; কেনা হবে ২৫ দশমিক ৪১ সেন্ট দরে

# যশোরের নোয়াপাড়ায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাংলা ট্রেক লিমিটেড; কেনা হবে ২৫ দশমিক ৪১ সেন্ট দরে

# কেরানীগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এগ্রেকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টস লিমিটেড; কেনা হবে ২৫ সেন্ট দরে

# কেরানীগঞ্জে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এপিআর এনার্জি; কেনা হবে ২৫ দশমিক ৪১ সেন্ট দরে

মন্ত্রণালয় বলছে, মোট ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে যেসব শর্তে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জমির দামের ভিন্নতা, ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের খরচ, প্লান ইক্যুইপমেন্ট আমদানির পর বন্দর থেকে প্রকল্প স্থানের দূরত্ব ও এর পরিবহন খরচ, জ্বালানি পরিবহন খরচের ভিন্নতা, ইঞ্জিন জেনারেটর মূল্যের তারতম্যের কারণে কেনার দর ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, “মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম। তারা আমাদের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে। আগামী বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে।”

আলোচনায় লোডশেডিং

গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে একটি সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণের পর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিও লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমস্যা দূর করার সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত বুধবার সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটির বৈঠকে বলা হয়,গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, “উৎপাদনের সাথে সাথে আমাদের চাহিদাও বাড়ছে। তবে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের কিছু সমস্যা আছে। বিভিন্ন এলাকায় যে লোডশেডিং হচ্ছে সেটা জন্য এটা একটা কারণ।

“কমিটি এজন্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সমস্যা দূর করার সুপারিশ করেছে।”

একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে কয়লা ভিত্তিকসহ যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ পাইপ লাইনে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তাজুল।

বৈঠক সংক্রান্ত সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে  লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোতে চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে মোট ৯৮টি  প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এরমধ্যে মূল এডিপিভুক্ত প্রকল্প ৮২টি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তাবায়নাধীন প্রকল্প ১৬টি।

তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং নাসিমা ফেরদৌসী অংশ নেন।

Pin It