বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগ

Dollar-new

গত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ২৬৫ কোটি (২.৬৫ বিলিয়ন) ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশ, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি।

এই ১১ মাসে পুঁজিাবাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৭৯ শতাংশের মতো।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকেই কারণ মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

৩০ জুন ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার মে মাস পর্যন্ত এফডিআইর তথ্য প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, গত জুলাই-মে সময়ে ২৬৫ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে নিট এফডিআইর পরিমাণ হচ্ছে ১৬২ কোটি ৫০ লাখ (১.৬২ বিলিয়ন) ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ২৩৩ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল। আর এই সময়ে নিট এফডিআইর পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এ হিসাবে এই ১১ মাসে মোট এফডিআই বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর নিট এফডিআই বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২৮ জুন বাজেট নিয়ে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, “মূলত দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা, নীতি কৌশলগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা ও এগুলোর সুসমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অব্যাহত সরকারি উদ্যোগ ইত্যাদির প্রভাবে ব্যবসায়ী/বিনিয়োগকারীসহ সকল স্তরের জনগণ দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ক্রমেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন যা ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথকে প্রশস্ত করেছে।

“তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগে।”

বেশি পুঁজিবাজারে

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ওই ১১ মাসে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

এ হিসাবে এই ১১ মাসে পুঁজিবাজারে নিট এফডিআই বেড়েছে ৪৭৯ শতাংশ।

বিভিন্ন খাতে মোট যে এফডিআই আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থকে নিট এফডিআই বলা হয়।

গত কিছু দিন ধরে পুঁজিবাজার দর বাড়ছে। এজন্য নতুন বিনিয়োগ পাওয়াকে কারণ দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরাও।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী  বলেন, “কিছু নতুন বিদেশি ফান্ড পুঁজিবাজারে এসেছে।”

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ  বলেন, “বাজেটের পর থেকে পুঁজিবাজারে অনেক ফান্ডে এসেছে।”

মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়ায়, যা গত সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত পাঁচ দিনই লেনদেন ছিল ১ হাজার কোটির বেশি।

রোববার ডিএসই সূচক ছিল ৫৭৭৪ পয়েন্ট। বুধবার ডিএসই সূচক ছিল সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৭৮২ পয়েন্ট। এর আগে সূচক এর কাছাকাছি ছিল এবছরের এপ্রিলে ৫৭৭৭।

বাণিজ্য ঘাটতি ৯২০ কোটি ডলার

গত অর্থবছরের ১১ মাসে পণ্য বাণিজ‌্যে বাংলাদেশের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২০ কোটি (৯.২ বিলিয়ন) ডলার।

এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং পুরো বছরের (১২ মাস) চেয়ে ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

জুলাই-মে সময়ে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ চার হাজার ২৫ কোটি ৩০ লাখ (৪০.২৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে এই সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ তিন হাজার ১০৫ কোটি ৫০ লাখ (৩১.০৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২০ কোটি ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে পুরো সময়ে (১২ মাসে) ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬২৭ কোটি ৪০ ডলার।২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৬৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

Pin It