বিনা ভাড়ায় গত বছর ৮৬১ মরদেহ এনেছে বিমান

1489672830-5a5793f7c57f8

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রবাসীদের পাশে রয়েছে। গত বছরও দেশের পতাকাবাহী এ উড়োজাহাজ সংস্থাটি বিনা ভাড়ায় ৮৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ দেশে এনে স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে আবুধাবি থেকে ২৭, দোহা থেকে ৮, দাম্মাম থেকে ৯৩, দুবাই থেকে ৫৯, কুয়ালালামপুর থেকে ৬২, জেদ্দা থেকে ৩২, কুয়েত থেকে ৯১, মাস্কাট থেকে ১৭৩ ও রিয়াদ থেকে ৩১৬ জন প্রবাসীর লাশ দেশে এনেছে বিমান।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্সের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা আর বিশ্বের নানা প্রান্তে কর্মরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের পরিবহনে বিমান সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন সংকটে, যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশগুলো থেকে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনারও কাজ করেছে। পাশাপাশি বিমান বিভিন্ন গন্তব্যস্থল থেকে প্রবাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ বিনামূল্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেশে বয়ে এনে জাতীয় সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে মারা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের লাশ বিনা খরচে বহন করেছে বিমান, যেখানে একেকটা লাশ বহন করতে অন্য এয়ারলাইন্সকে লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করতে হয়। গত অর্থবছরে ৮৬১ জন প্রবাসীর মরদেহ বহনে বিমান স্বজনদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়নি। ভাড়া নিয়ে এসব মরদেহ পরিবহন করলে বিমানের আট কোটি ৪০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আয় সম্ভব হতো।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধিষ্ণু জনগোষ্ঠীর দেশে অভিবাসন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তাই শ্রমিকদের সহজ ও নিরাপদ বিদেশ যাত্রার বিষয়টিকে বিমান সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। প্রবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই বেশিরভাগ ফ্লাইটের রুট ও সময় নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি শুধু প্রবাসীদের যাতায়াতকে আরও সহজ করতে সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামের পাশাপাশি মদিনা থেকে ফ্লাইট পরিচালানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

Pin It