বাঙালির চেতনায় অমর বঙ্গবন্ধু

20800174_1388791977842948_4980596221275978830_n-e1502822796809

আহমেদ বকুল
বাঙালিদের ভাগ্যাকাশে পূর্ণিমায়ের চান
বিশ্বসেরা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।
সেই নেতা জন্মে ছিলেন বাঙালিদের ঘরে
এমন নেতা আর পাব না শত বর্ষর পরে।
টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর ছিলেন স্বাধীন চেতা
কামার কুমার চাষি জেলে সবার প্রিয় নেতা।
উঁচু তাঁর তর্জনি ছিল বজ্রকণ্ঠ স্বর
অধিকার আদায়ে তাঁর না ছিলযে ডর।
জেল জুলুম নির্যাতন দীর্ঘ কারাবাস
আপোষহীন নেতা ছিলেন পশ্চিমাদের ত্রাস।
বৈষম্য আর অবহেলা করে রেষারেশি
লক্ষ কােটি মানুষ তখন ছিল বাংলা ভাষী।
বাঙালিদের মুখের ভাষা কেড়ে নেবার তরে
উর্দু -ই হবে রাষ্ট্র ভাষা ঘােষণা যে করে।
বাংলা হবে রাষ্ট্র ভাষা দাবিতে সোচ্চার
রাজপথে ভাষার মিছিল শ্লােগানযে বাংলার।
মিছিলের উপরে গুলি চালায় হানাদার
সালাম রফিক জব্বার বরকত প্রাণ দিলো এবার।
বায়ান্নর ভাষা আান্দােলন বাঙালির চেতনা
তারই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সূচনা।
পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে
বাঙালিদের করে জুলুম শাসন ও শােষনে।
সােনার ডিম প্রসব করে পূর্ব পাকিস্তান
পশ্চিমারা মজা করে ডিমের বড়া খান।
৬ দফা দাবি তােলেন মুজিবুর রহমান
৬ দফাতে বাঙালিদের মুক্তির পথ দেখান।
শোষন নিপীড়ন যখন চরমে পৌঁছিল
সত্তরের নির্বাচন এর কঠিন জবাব দিলো।
বাঙালিরা উজ্জিবিত মুক্তির মন্ত্র পেয়ে
জয় বাংলা জয় বাংলা ধ্বণী অন্তর গেল ছুঁয়ে।
সংখ্যা ঘরিষ্ট আসন আওয়ামীলীগ পায়
ভূট্টু তখন মনে মনে অন্য চাল চালায়।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন মুজিবুর
তাঁর হাতে ক্ষমতা দিতে পাক করে কসুর।
গড়িমসি তাল বাহানা ভূট্টাে মারে চাল
বর্বর ইয়াহিয়া বাড়ায় কতই না জঞ্জাল।
পিন্ডিতে গােলটেবিল বৈঠক ডাকা হয়
শেখ মুজিবুর সে বৈঠকে গেলেন সেসময়।
তারই আগে ৬ দফা হয়ে গেল ফাঁস
গােল টেবিলে হট্টগােল পশ্চিমা উল্লাস।
ভেস্তে গেল গােল টেবিল ফলাফল জিরো
ফিরে এলেন শেখ মুজিবুর বাঙালিদের হিরো।
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সারাসার
নির্দেশ দিলেন শেখ মুজিবুর প্রস্তত হও এবার।
অসহযােগ আন্দােলন শুরু হইয়া গেল
বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনে দেশবাসি জাগিল।
চারিদিকে কানাঘুষা কি হইবে এবার
বঙ্গবন্ধুর ডাক শোনে সকলে সোচ্চার।
বর্বর ইয়াহিয়া চালায় আলোচনা তারও
ভেতরে ভেতরে পাক সৈন্য আনে আরও।
২৫ শে মার্চ কালরাত ট্র্যাংক সৈন্য নামায়
ইয়াহিয়া মানুষ মারার নির্দেশও পাঠায়।
নির্দেশনা পেয়ে এই পাক হানাদার
ছাত্র- শিক্ষক – বুদ্ধিজীবি মারল বেশুমার।
চারিদিকে গুলাগুলি বারুদেরই গন্ধ
বাঙালি মারিতে পাক সেনা হলো অন্ধ।
যেখানে সেখানে শিক্ষক বুদ্ধিজীবির লাশ
মানুষের কান্নাতে ভারি ঢাকারও আকাশ!
শুরু হইল জনযুদ্ধ জীবন মরন পণ
স্বাধীনতার জন্য মানুষ সেচ্চায় দেয় জীবন।
লুটপাট নারী ধর্ষণ পাক হানাদার করে
শিশু বৃদ্ধ নর নারী মারে নির্বিচারে।
নয় মাসের জনযুদ্ধে স্বাধীন হইল দেশ
ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণ হইল নিঃশ্বেস।
দুই লাখ নারীর ইজ্জত বিনিময়ে তার
লাল সবুজের পতাকা অহংকার বাংলার।
১৬ মার্চ বিজয় দিবস বাঙালির বিজয়
জয় বাংলা জয় বাংলা ধ্বণি প্রকম্পিত হয়।
২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা বাঙালির গৌরব
বাঙালির চেতনায় মুজিব সব সময় সরব।

Pin It