‘বাংলাদেশের অবস্থা সিঙ্গাপুর নয়, নাইজেরিয়ার মতো’

উন্নয়নের যে পথে বাংলাদেশ হাঁটছে তা সিঙ্গাপুর নয়, নাইজেরিয়ার মতো বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের মর্গান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম জি কিবরিয়া।

Public-Lecture-MG-Quibria

এই অবস্থার উত্তরণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ সমানতালে করার পরামর্শ দিয়েছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইনস্টিটিউটের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।

বুধবার ঢাকায় এক গণবক্তৃতায় অধ্যাপক কিবরিয়া বলেন, “উন্নত দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান উভয়টি অন্তর্ভুক্তিমূলক। আমাদের মতো দেশে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ঠিকমতো করতে পারলে সেটার সঙ্গে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি মিলে উন্নয়নের দিকে আগানো যাবে।

“রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না, তখন রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাগাভাগিও বৈষম্যমূলক হবে।”

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ইনক্লুশনের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ইনক্লুশন হচ্ছে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র, যেখানে সকলের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। আর অর্থনৈতিক ইনক্লুশন হচ্ছে প্রত্যেকের সমান অধিকার এবং প্রত্যেকে তাদের সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার রাখবে।

“বাংলাদেশে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিস্তৃত করেন। কিন্তু রাজনীতি সেটার পেছনে কাজে লাগাতে হয়।”

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বিভাগের সাবেক এই পরিচালক বলেন, “আমি সিঙ্গাপুরে ছিলাম, কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের সরকারি সুশাসনের বিস্তর ফারাক রয়েছে। আমাদের পরিস্থিতি অনেকটা নাইজেরিয়ার মতো বলে মনে হয়েছে আমার।”

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট ‘মন্ত্রের মতো না পড়ে’ কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়ে তিনি বলেন, “মরক্কো বাংলাদেশের মতো ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে ভালো অবস্থায় আছে। আরব বসন্ত মরক্কোর যুব সমাজের মধ্যে আশা জাগিয়েছিল, তাদের কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা কাজে না লাগানোয় এখনও সেখানে বেকারত্ব প্রকটই আছে।”

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক ইনক্লুশনের বদলে অর্থনৈতিক ইনক্লুশনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশে সেটা কার্যকর হবে কি-না সে বিষয়ে সন্দিহান অধ্যাপক কিবরিয়া।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ইনক্লুশনকে কিছু পাশ কাটিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর উন্নয়ন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, ‘এ’ সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে কেউ ক্ষমতাবান হলে, সে আবার ‘বি’ সরকার ক্ষমতায় এলে শূন্যে চলে আসে। দুর্নীতি কমিশনসহ অনেক সংস্থা তার পিছু নেয়।”

গার্মেন্ট কারখানায় সেলাইয়ের কাজে রোবটের ব্যবহার বাড়তে থাকায় তা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারে ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন অধ্যাপক কিবরিয়া।

একইসঙ্গে প্রবাসী শ্রমবাজারে সৌদি আরবের মতো অন্যরাও যদি দেশীয় শ্রমিকদের দিকে ঝোঁকে সেটা মোকাবেলায় বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরামর্শ দেন বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এই সম্মানীয় ফেলো।

‘রিফ্লেকশনস অন বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক গণবক্তৃতার আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিব, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন বক্তব্য দেন।

Pin It