নিখোঁজ মারুফ জামানের বাসায় মুখ ঢেকে কারা এসেছিল?

m-maroof-zaman1

গত সোমবার মেয়েকে আনতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার পর ওই তিন যুবক এসেছিলেন মারুফ জামানের বাড়িতে, যা ভবনের সিসি ক্যামেরায়ও ধরা পড়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ধানমণ্ডি থানা পুলিশ ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে।

থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ বুধবার  বলেন, “ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন যুবক মাঙ্কি ক্যাপ পরে ওই বাসায় ঢুকেভ কিছু সময়ের মধ্যেই বাসা থেকে বেরিয়ে যায় তারা।”

ওই যুবকদের মুখ ঢাকা ছিল বলে তাদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

ধানমণ্ডি ৯/এ সড়কে পৈত্রিক জমিতে করা ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় মারুফ জামান থাকেন। ওই বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকেন তার বড় বোন শাহরিনা কামাল, পঞ্চম তলায় থাকেন তার ছোট ভাই রিফাত জামান।

শাহরিনা বলেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাড়ি নিয়ে বেরোনোর ঘণ্টাখানেক পর মারুফ বাড়িতে ফোন করে গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন, কয়েকজন লোক এলে তাদের কাছে যেন তার ল্যাপটপটি দিয়ে দেওয়া হয়।

গৃহকর্মীদের বরাত দিয়ে মারুফের বোন বলেন, “তিনজন সুঠামদেহী লোক বাসায় আসে, যাদের দুজন ইয়াং। তারা একটি ল্যাপটপ, কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে চলে যায়।”

নিজের ফ্ল্যাটে ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে নিয়ে থাকতেন বিপত্নীক মারুফ; আর থাকতেন দুজন গৃহকর্মী। সামিহা কয়েক সপ্তাহ আগে বড় বোনের কাছে বেড়াতে বেলজিয়াম গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তাকে আনতেই সোমবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দর রওনা হয়েছিলেন মারুফ। তারপর থেকে তার সন্ধান মিলছে না।

শাহজালাল বিমানবন্দরে বাবাকে না পেয়ে তার ফোনও বন্ধ পাওয়ার পর চাচাকে ফোন করে বাড়ি ফিরেছিলেন সামিহা। পরদিনও বাবা ফিরে না আসায় থানায় জিডি করেন তিনি।

এরপর পুলিশ তদন্তে নামলেও দুই দিনেও এই কূটনীতিকের কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।

ধানমণ্ডি থানার ওসি লতিফ  বলেন, সোমবার রাতেই কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী তিনশ ফুট সড়কে মারুফ জামানের গাড়িটি পাওয়া যায়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্তের কারণে পুলিশ বারবার বাসায় আসছে জানিয়ে শাহরিনা বলেন, “পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণখানে মারুফ সর্বশেষ অবস্থান করছিল বলে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পেরেছে। এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোনের কোনো সিগন্যাল মিলছে না।”

মারুফের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না পরিবার।

ভাই রিফাত বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিলে তাদের মা মারা যান। এরপর ওই বছর ডিসেম্বরে মারুফ জামানের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরের বছর বাবা মারা যান।

এসব কারণে মারুফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও তার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই মনে করেন তার ভাই। রাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সঙ্গেও মারুফ যুক্ত ছিলেন না বলে ভাই জানান।

গত অগাস্ট থেকে চার মাসে ঢাকায় রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মিলে ডজনখানেক মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়সহ চারজন পরিবারের কাছে ফিরে এলেও অধিকাংশের এখনও সন্ধান জানা যায়নি।

মারুফ জামান সর্বশেষ ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে কাতারে রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে অবসরে যান তিনি।

রিফাত জানান, মারুফ জামান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে সিগন্যাল কোরের ‘ষষ্ঠ শর্ট কোর্সে’ ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ওই চাকরি থেকে চলে আসেন।

“১৯৮২ সালে আর্মি থেকেই ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন ভাই। প্রথম দিকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন।”

ভাইয়ের দেওয়া তথ্য মতে, মারুফ জামান সর্বশেষ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্যাডিজে (বিআইএসএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন।

Pin It