ধর্মান্ধতায় আক্রান্ত্ম মিয়ানমার

photo1 (1) (1)

মিয়ানমারের অভ্যন্ত্মরীণ অবস্থা এখনো যে জটিল গণবিরোধী, এটা স্পষ্ট। তাইতো ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় তৎপরতা রোহিঙ্গাদের বিরম্নদ্ধে তো এটাই প্রমাণ করে, ওইদেশ ধর্মান্ধতায় আক্রান্ত্ম। যতই সু চি শান্ত্মিতে নোবেল পান না কেন, শান্ত্মির প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না।কামাল লোহানী রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা ‘চিরস্থায়ী’ হতে পারে। আবার সুদূর ভবিষ্যতে যদি আদৌ কোনো সমাধান খুঁজে বের করা যায়, তাহলে এ সমস্যা ‘দীর্ঘস্থায়ী’ হতে পারে? আন্ত্মর্জাতিক চাপ এবং বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বন্দ্বে আমরা তো বাস্ত্মব সিদ্ধান্ত্ম সেটা নিতেই পারি যে, এক্ষুণি রোহিঙ্গা সমস্যার ফায়সালা হবে না। দুটো বিষয় স্পষ্ট, এক. আন্ত্মর্জাতিক ক্ষেত্রে যে চাপ আমাদের সামনে প্রামাণ্য, তা যে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে দেয়া হচ্ছে, তা নয়। দায়সারা মনে হচ্ছে, তার আন্ত্মরিকতার মাত্রা আমার কাছে সুখকর মনে হচ্ছে না। যদি মানবিকতার প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধাবোধ থাকত তাহলে রাষ্ট্রগুলোর লিপ্সা সার্ভিস না দিয়ে রাষ্ট্রসমূহ নিরাপত্তা পরিষদ তথা জাতিসংঘের মাধ্যমে চলতি বিশ্বের ‘বৃহত্তম সামরিক বিপর্যয়’ রম্নখতে একটা ‘সিদ্ধান্ত্ম’ গ্রহণ করতে পারত। অথচ জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেল আন্ত্মনীয় বুদারেসের আবেগময় বর্ণনা এবং মিয়ানমার সরকার ও তার সেনাবাহিনীর নৃশংস নিদারম্নণ বেধড়ক মানুষ হত্যার বিরোধিতা করত। অথচ চীন ও রাশিয়ায় ভেটো প্রয়োগের ভয়ে পাঁচজন স্থায়ী সদস্যসহ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত্ম কোনো প্রস্ত্মাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ওরা কেবলমাত্র বুফা রেসের বক্তৃতা আর বাংলাদেশের বিপন্নতার কথা শুনেও কোনো সঠিক, সুনির্দিষ্ট এবং অবশ্য পালনীয় কোনো সিদ্ধান্ত্ম মিয়ানমারের ‘শান্ত্মির দূত’ অং সান সু চি কিংবা মগজে কেবলমাত্র মারণাস্ত্রের বিষ ধারণ করে লাগাতার গণহত্যায় বড় পাষ- মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার রক্ষায় কোনো সিদ্ধান্ত্ম দিতে পারেনি। ওরা মিয়ানমকারকে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়ে কিছু সাহায্য আমাদের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে আমরা ভাবছি, ভারত সুবিধাবাদী, চীন আমাদের বন্ধু, রাশিয়া আমাদের পারমাণবিক সহযোগী। এই ভাবনা কি আদৌ বাস্ত্মব? কেবলমাত্র আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি ওদের দ্বিচারিতার কৌশলে। দুই. ‘আমরা যুদ্ধ চাই না’ কিংবা সংকটের শান্ত্মিপ্রিয় সমাধান চাই, এটা ঠিক কিন্তু আমাদের কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে কতটা এগিয়েছি? কিন্তু একটি দুর্বৃত্ত দেশ প্রায় চারদশক ধরে যে হিংসাত্মক আচরণের মাধ্যমে আমাদের ওপর ওদের নিজস্ব সমস্যা মোকাবিলা করতে না পেরে মিয়ানমারের এক-চতুর্থাংশ আকারের তাদের চেয়ে দ্বিগুণ জনগোষ্ঠীর ওপর এক অত্যাশ্চর্য অমানবিক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। তা থেকে রেহাই পাবার কোনো উপায় দেখছি না।

বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহকে কূটনৈতিকভাবে কিছুটা নড়বড় যে করা সম্ভব হয়েছে তা জাতিসংঘের ৫৭তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া পাঁচ দফা সমাধান প্রস্ত্মাবের প্রতি অধিকাংশের সমর্থন তা প্রমাণ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব তার মূল বক্তব্যে যেভাবে মিয়ানমারের যুদ্ধ-সংঘাত এবং রোহিঙ্গা জনগণের ওপর চালানো সেনাবাহিনীর গণহত্যা, গ্রামকে গ্রাম অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ এমন যাবতীয় নৃশংস আচরণ সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকরী প্রস্ত্মাব পাস না করতে পারলে যে জাতিসংঘ কিছুই করতে পারবে না। মিয়ানমার তাদের সহিংস নৃশংসতাকে বিশ্বের চোখে আড়াল করার জন্য দেশে এবং জাতিসংঘ ফ্লোরে বর্মী প্রতিনিধি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা যে ডাহা মিথ্যা জানা সত্ত্বেও তিনি মিয়ানমারের পক্ষে সাফাই গেয়ে উল্টো রোহিঙ্গাদের ওপর বিদ্রোহ এবং চৌকির ওপর হামলার অজুহাত তুলে চলমান সহিংসতার কয়েকটি সূচনা করেছে এবং আজও নির্বিচারে চালিয়ে যাচ্ছে। নাফ নদ পেরিয়ে দৃষ্টি ওপারে ফেললেই এখনও কেন গ্রামগুলোতে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে? তবে কি তারা জাতিসংঘে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনেও কানে তুলতে চাইছে না? বিশ্ব জনমত তো আছেই, সেই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যে কঠোর বক্তব্য তুলে ধরে এই মানুষহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে তার কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না কেন? কোন খুঁটির জোরে মিয়ানমার এমনভাবে কানে তালা দিয়ে বসে আছে। এমনকি জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধি দলকে মিয়ানমারে যেতে অনুমতি দিলেও বসতি এলাকায় ঢুকতে দিতে চায়নি। তারা বিদ্রোহে যে রাখাইন অজুহাত হলে বিশ্বকে নিজের অপরাধ ঢাকার যে কৌশল উপস্থিত করতে চাইছে তা যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। কিন্তু নানান দেশের বিবিধ সরকার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যে ছবি দেখতে পাচ্ছে, তা যে মিথ্যা নয় এটা প্রমাণিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে আবেগময়ী বক্তৃতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট উত্থাপন করেছেন বিশ্ব দরবারে এবং সমাধানে পাঁচটি প্রস্ত্মাব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সেটা আছেই। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, ও আইনি সংস্থার সঙ্গে খ- বৈঠক করেছেন তখন তাদের উদ্যোগ তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তুরস্ক তার ফার্স্ট লেডি পাঠিয়ে যে মমতা প্রদর্শন করেছে, তা কাটাঘায়ে হয়তো সামান্য হলেও স্বস্ত্মি দিয়েছে এবং ওই দেশের প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রথমদিকে যেভাবে সোচ্চার ছিলেন তাতে আমরা তো ভেবেছিলাম কী দারম্নণ ফলই না পেয়ে যাচ্ছি, কিন্তু হা হতাশ। তার আমাদের প্রতি দরদ দেখে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে এরদোগান সাহেব নিজের দেশে ব্যাপক ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য কী নিদারম্নণভাবেই না দমনটি চালিয়েছিলেন। কি তার পটভূমি? কেন তিনি আমাদের প্রতি এত সদয় হচ্ছেন? এতদিনে রাশিয়া সফরে গিয়ে সৌদি বাদশাহ দেখলাম রোহিঙ্গা ইসু্য নিয়ে পুতিন সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা পুলকিতবোধ করছি। কিন্তু রোহিঙ্গারা কি তাতে স্বস্ত্মি পাবেন, না আমাদের ওদের ফিরিয়ে নেয়ার চাপ সৃষ্টিতে কোনো প্রভাব ফেলবে বা ফেলছে? অনেকে বলবেন রাতারাতি তো আর পরিবর্তন হবে না। ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। তা ঠিক, কিন্তু কতদিন? হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সু চি সরকার ও সেনাবাহিনী যে হিংস্রতা দেখাচ্ছে তাকি আদৌ বিন্দুমাত্র থেমেছে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনে নানা বৈঠক করে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ মানবিকতার কারণেই শুধু তুলে ধরেননি, তিনি বাস্ত্মব সমাধানে পাঁচ দফার কথা বারংবার উচ্চারণ করেছেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অস্ত্রোপচারও হয়েছে তার দেহে। তারপরও তিনি সামান্য সুস্থ হয়ে লন্ডন গেছেন। কথা বলতে কোনো কার্পণ্য করেননি। এদিকে দেশে বসে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। এমনকি কক্সবাজার পর্যন্ত্ম নিয়ে সচক্ষে সব নির্মম-নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের নিদারম্নণ কষ্টের মাত্রা দেখিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই স্ব স্ব দেশে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার সমন্বিত ফল আমরা কি এখনো দেখতে পেয়েছি?

হ্যাঁ, বাংলাদেশ ও বিশ্বময় যেটুকু ‘রা’ উঠেছে এই মানুষ হত্যার বিরম্নদ্ধে তাতে কেউ কেউ যে সাড়া দেয়নি, তা নয়। কিন্তু দুঃখটা হলো এত করে কথা বলা, দেখানোর পরও কেন মিয়ানমারের বোধদয় ঘটছে না? সে কি চীন, রাশিয়া, ভারতের স্বার্থবাদী বাণিজ্যিক কারণে? তবে আমাদের সঙ্গে ওদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কি হলো? আমরা কি ‘শত্রম্ন’ হয়ে যাচ্ছি? এতগুলো- প্রায় ছয় লাখ বর্তমানে এর আগে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে কি অপরাধ করেছি?
মিয়ানমারের অভ্যন্ত্মরীণ অবস্থা এখনো যে জটিল গণবিরোধী, এটা স্পষ্ট। তাইতো ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় তৎপরতা রোহিঙ্গাদের বিরম্নদ্ধে তো এটাই প্রমাণ করে, ওইদেশ ধর্মান্ধতায় আক্রান্ত্ম। যতই সু চি শান্ত্মিতে নোবেল পান না কেন, শান্ত্মির প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না।
হঅনেকে অবশ্য আমাদের দেশেও মাঝেমধ্যে কথা মারপ্যাচে সু চির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে চেষ্টা করেন। বলেন, ওর তো কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই, সবই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। প্রশ্ন হলো, এই সু চিইতো সুদীর্ঘকাল গৃহবন্দি ছিলেন এই বাহিনীর শাসনে। তিনি তো ভালো করে জানেন, ওরা হিটলার বাহিনীর চেয়েও অধম। আর সে কারণেই মিয়ানমারে প্রায় ত্রিশটির মতো বিরোধী-বিদ্রোহী গ্রম্নপ কাজ করছে। এখনো বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গ্রম্নপের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বনিবনা নেই। তাই তারা নিষিদ্ধ আর কিছু আছে দীর্ঘকাল থেকে সেনাবাহিনীর শাসনের বিরম্নদ্ধে সংগ্রাম করে এখন ক্লান্ত্মিতে ‘সন্ধি’ করেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে নাগরিক অধিকার আদায়ে বেশ কয়েকটি ‘বিদ্রোহী সংগঠন’ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। অনেকেই যুদ্ধবিরতি পালন করছে। কিন্তু ৬-৭ কোটি মানুষের এই বিশাল দেশটি সমুদ্রে সম্পদ আছে অঢেল। তারদিকে নজর চীন, রম্নশ ও ভারতের। তাইতো আমাদের মিত্রদের ‘শত্রম্নর আচরণ’ এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়, যদি মৌখিক সহানুভূতিও দেখাচ্ছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীতো বার্মার স্বাধীনতার পর থেকেই শক্তিমান। একসময় ‘কারেন্ট বিদ্রোহী’ দমনে তারা যুদ্ধ-পরিবেশ গৃহেই সৃষ্টি করেছিল। সামরিক শাসনের যাঁতাকলে তারাও নিস্ত্মব্ধ। অবশ্য সক্রিয় থাকলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতি কি ব্যবহার করতো, এখন বলা যাবে না। এদের সবার মধ্যেই সাম্প্রদায়িক মনোভাব বিদ্যমান। না হলে শান্ত্মির ধর্ম বুড্ডিস্ট মতবাদের মানুষরা এমন হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হবে কেন? রাখাইনরা মুসলিম বলে তারা ঐ ‘শান্ত্মিবাদী’ বুড্ডিস্ট সেনাবাহিনীতো হত্যা করছে আর গোড়া ধর্মীয় গোষ্ঠী দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।

কূটনৈতিক সফলতার নমুনা এবার তুলে ধরতে চাই একটু। সু চি হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার ঘোষণা দিলেন এবং তার দূত দপ্তরমন্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠালেন আলোচনা করার জন্য। তবে কি জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ইত্যকার পাশবিক কর্মকা- বন্ধ করা কি উচিত ছিল না, সাময়িক হলেও আমরা কি দেখলাম আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সদলবলে ওই নখদন্ত্মবিহীন সু চির মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন। যখন আলোচনা চলছে তখনও রোহিঙ্গাদের প্রাণভয়ে নিজ দেশত্যাগ চলছে। সবাই আসছে বাংলাদেশে। আলোচনা মাত্র একদিন, একটি বৈঠকে। চুক্তি হয়ে গেল যৌথ কমিটি হবে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাবেন, আরো কত কি। সু চির মন্ত্রীপ্রবর চলে গেলেন। আলোচনা শেষে বর্মিমন্ত্রী আমাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন না। পালিয়ে গেলেন, না এড়িয়ে গেলেন, জানি না। তবে দু’পক্ষের আলোচনার পর সাধারণত: দু’পক্ষই উপস্থিত থাকার আন্ত্মর্জাতিক রীতি, সৌজন্য। সু চির মন্ত্রী সেই সৌজন্যও দেখাতে পারলেন না। কপটতার বৈঠক করে প্রতারণার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে চলে গেলেন। আমরা তো খুশি রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে যৌথ চুক্তি হয়েছে। কিন্তু কি দেখলাম? সীমান্ত্মে যে কাঁটাতারের বেড়া ছিল বহুদিন পরে নষ্ট হয়ে পড়েছিল, সেটাকে মন্ত্রী ফিরে যাবার পর নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু নির্মাণ বা সংস্কারই নয়, তাতে বিদু্যতায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ ওটা ডিঙ্গোতে গেলেই প্রাণটা হারাবেন। আহ কী চমৎকার ফসল পেলাম আলোচনায় ল্যান্ড মাইন পোতার খবর তো আজ নয়, বহুদিন থেকেই শুনতে পারছি।

এত কথা বলে লাভ নেই। বোঝাই যাচ্ছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রক সলিড, অমর অবিচল তাদের হন্ত্মারক চরিত্রে। কফি আনান সমাধান প্রতিবেদন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্ত্মাব- এই দুটোকে সামনে রেখে আমাদের ‘কূটনৈতিক লড়াই’ জোরে জোরে করতে হবে। বর্মা কিন্তু সম্পদের হাতছানিতে ‘বিবেক’ পর্যন্ত্ম কিনে ফেলছে। তাহলে এই দশ-এগারো লাখ রোহিঙ্গা জনগণের ভাগ্য কি অনিশ্চিত? ইনফ্ল্যাক্স বোঝাতেই হবে। মানবতার নামে বাংলাদেশ পরীক্ষা দিতেই থাকবে কিন্তু এর অপপ্রভাব কি দেশের মানুষের ওপর পড়বে না? উন্নয়ন কি ব্যাহত হবে না। যতই রিলিফ আসুক, মেরম্নদ- সোজা রাখা আমাদের পক্ষে কতটা অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব?

Pin It