জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি ট্রাম্পের

trump-jerusalem

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“দুই দশকেরও বেশি সময়ের ছাড় দিয়েও আমরা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি।”

জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করতে এতদিন বিশেষ আদেশে পররাষ্ট্র দপ্তরকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা। মঙ্গলবারও ট্রাম্প ওই আদেশে সই না করায় তিনি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উল্টে এই ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধান চাইলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় থাকবে।

 ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল।

মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলে তা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘মরণ ছোবল’ হবে বলে সতর্ক করেছিলেন ফিলিস্তিনের নেতারা।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর জিম্মাদার জর্ডান এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।

এই সিদ্ধান্ত ‘চরম সীমা’ অতিক্রম করবে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরবও এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।

 ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সায় নেই তাদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যেরও।

মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ফোন করে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, যাদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোও ছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিসও জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুসারে জেরুজালেমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা।

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ম্যানুয়েল হাসাসিয়ান বিবিসিকে বলেন, জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান’ প্রচেষ্টায় ‘মরণছোবল’ এবং ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল।

 এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে পার্লামেন্টে বলেছেন, জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাজ্য অবস্থান বদলায়নি।

“নগরীটির মর্যাদা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা উচিত এবং এটিকে ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ভাগ করে দেওয়া উচিত।”

ওদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে উল্লাস প্রকাশ করে অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেত্তে।

“এ পদক্ষেপে ইসরায়েলের শত্রুরা মেনে নিতে বাধ্য হবে যে, জেরুজালেম কখনও বিভক্ত হবে না,” বলেছেন তিনি।

Pin It