ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে অনশনে এরিকসনকর্মীরা

ঢাকার গুলশানে এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যালয়ে সোমবার দুপুর থেকে অনশন শুরু করেন ৬২ জন কর্মী। তারা চাকরিতে পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছেন; নইলে ক্ষতিপূরণ চাইছেন।

এরিকসন বাংলাদেশের ইমপ্লিমেন্টেশন কো-অর্ডিনেটর লুৎফর রহমান আনন্দ  বলেন, “গত ১৭ অগাস্ট আমাদের ৬২ জন কর্মচারীকে মৌখিকভাবে ৩১ অগাস্টের পর চাকরিতে যোগ না দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

“বিনা নোটিসে ঈদের আগে এভাবে চাকরি হারিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো পথ আমাদের খোলা নেই। ঈদ তো দূরের কথা, আগামী মাসে বাড়ি ভাড়া, ছেলে-মেয়েদের স্কুলের ফি দেওয়ার টাকাটাও আমাদের হাতে নেই।”

১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত লুৎফর। শুরুতে স্থায়ী নিয়োগ পেলেও এক বছর পর তার নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক করা হয়। চাকরিচ্যুত কর্মচারী সবাই চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন বলে জানান তিনি।

ছাটাই হওয়া আরেক কর্মচারী মো.আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি এখানে ছয় বছর ধরে আছি। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের এখানে চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”

কার্যালয়ে অনশনে কোম্পানির ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা

অনশনরত কর্মীরা জানান, তারা বোনাস স্থায়ী কর্মচারীদের তুলনায় অর্ধেক পেলেও ওভারটাইম ফি পেতেন না। এছাড়াও যাতায়াত, পারফর্মেন্স বোনাস ও প্রফিট শেয়ারও তারা পেতেন না।

ছাঁটাইয়ের নির্দেশের পর এই কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। তাতে কোনো ফল না পেয়ে অনশনে বসেছেন তারা।

কর্মী অসন্তোষের বিষয়ে জানতে এরিকসন বাংলাদেশের হেড অব কান্টি ইউনিট আবদুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সুইডেনভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি এরিকসন টেলিকম শিল্পে নানা প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। বিশ্বজুড়ে এই কোম্পানির এক লাখের বেশি কর্মীর মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কাজ করেন প্রায় ২৭ হাজার।

Pin It