খেলাপি ঋণ ‘উদ্বেগজনক পর্যায়ে’

bibm-annual-banking

রোববার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে তিনি দেশের থেলাপি ঋণের চিত্র তুলে ধরেন।

গভর্নর ফজলে কবীরের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে তৌফিক চৌধুরী বলেন, “২০১৫ সালে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৯ শতাংশের (মোট বিতরণ করা ঋণের) নিচে ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তা ১০ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

“এটা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে প্রকৃত খেলাপি ঋণ হচ্ছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা অবলোপন (রাইট অফ) করা; যা পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে।

মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি হওয়াকে উদ্বেগজনক বলেছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানও।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা আটকে আছে। জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৪৯ শতাংশই আটকে আছে ২০ জনের কাছে। রূপালী ব্যাংকের ৫১ শতাংশই শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে ২০ জনের কাছে।

তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে ব্যাংকারদেরও দায়ী করেন।

তিনি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, “ব্যাংকাররা ঋণ দেওয়ার পরের দিন থেকেই উদ্যোক্তাকে খেলাপি বাননোর চেষ্টা করে। উদ্যোক্তাকে কব্জায় আনতে ইচ্ছা করেই তাকে খেলাপি বানানো হয়। প্রকল্পে এমনভাবে ঋণ দেওয়া হয়, যাতে সে কোনোভাবেই সফল হতে না পারে।”

ব্যাংকিং সম্মেলনে বিআইবিএম মহাপরিচালক তৌফিক চৌধুরী বলেন, “শুধু যে বড় বড় ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি বাড়ছে, তা নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) ঋণেও খেলাপির হার বাড়ছে।”

এজন্য ব্যাংকগুলোর আভ্যন্তরীণ সুশাসন, দক্ষতা ও ঋণ ব্যবস্থায় দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

তৌফিক চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ অতিক্রম করার পরও ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ হওয়ায় ব্যাংকগুলো সহ্য করতে পারছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গভর্নর ফজলে কবীর সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরস্পরের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় করে লাভবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

Pin It