ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইরমার তাণ্ডব, নিহত ৭

বুধবার বিকাল পর্যন্ত পাঁচ মাত্রার এই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ৭ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি)স্কেলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় হার্ভির চেয়েও এটি বেশি ধ্বংসযজ্ঞের সক্ষমতা রাখে।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে ইরমা শনিবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্টের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগে থেকেই ‘ভয়াবহ বিপর্যয়ের’ ইঙ্গিত দেওয়া ইরমা বড় ধরণের ধ্বংসলীলা চালিয়েছে অ্যান্টিগা ও বারবুড়াতে।

এক হাজার ৮০০ বাসিন্দার বারবুড়া দ্বীপের ৯০ শতাংশ ‘মাটির সঙ্গে মিশে গেছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী গেস্টন ব্রাউনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

ঝড়ে একজনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছেন ব্রাউন।

ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন দুই দ্বীপ সেইন্ট মার্টিন ও সেইন্ট বার্থেলেমেতেও তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে ইরমা।

এখানে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছে বলে ফরাসী সরকার জানিয়েছে। দুই দ্বীপের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া ঝড়টি শনি বা রোববারের মধ্যে ফ্লোরিডায় আঘাত হানতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার আশঙ্কা করছে।

ঝড়টির গতিবিধি সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সময় এটি অন্তত ক্যাটাগরি ৪ শক্তি ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার দিনের শেষে ইরমা পুয়ের্তো রিকোর উত্তর পাশে আছড়ে পড়ে; দ্বীপের রাজধানী সান জুয়ানে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাতাসে রাস্তার ধারের গাছগুলোকে উপড়ে যেতে দেখা গেছে।

দ্বীপটির অন্তত অর্ধেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে ডুবে আছে বলে বাসিন্দাদের দেওয়া টুইটারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

আকাশ থেকে তোলা ছবিতে বারবুড়াজুড়ে ভয়াবহ বন্যার লক্ষণ দেখা গেছে। স্থানে স্থানে পড়ে থাকা গাছ, ডালপালা, চূর্ণ বিচূর্ণ গাড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসস্তুপের উপস্থিতিও ছিল।

নেদারল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপ সাবা ও সিন্ট ইউস্তেসাশও ইরমার তাণ্ডবের শিকার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৯০ মাইল দূরের দেশ কিউবার মধ্য এবং উত্তরাঞ্চলে হারিকেন ইরমার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী হাভানার বাসিন্দাদের রেশনের দোকানের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে খাদ্য, পানীয় ও জ্বালানি নিতে দেখা গেছে।

হার্ভির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তার চেয়েও শক্তিশালী ঝড়কে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে মার্কিন নাগরিকরাও।

ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টির এক লাখ বাসিন্দাকে উঁচু এলাকার দিকে চলে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের ৭ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে গভর্নর রিক স্কট জানিয়েছেন।

রাজ্যগুলোর মধ্যে নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

জর্জিয়ার গভর্নর নাথান ডেলও ইরমার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ছয়টি উপকূলীয় শহরে জরুরি অবস্থাঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বুধবার মেক্সিকো উপকূল এবং আটলান্টিক মহাসাগরে আরও দুটি শক্তিশালী ঝড় সৃষ্টি হওয়ার খবর দিয়েছে।

মেক্সিকো উপকূলে সৃষ্ট কাইতাকে নিয়ে ভয় না থাকলেও হারিকেন জোসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত চলে আসতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন।

Pin It