এল সালভাদোরের ২ লাখ অভিবাসী তাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বাস করে আসা এল সালভাদোরের প্রায় ২ লাখ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

capitol-hill-in-washington

যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বসবাস এবং কাজ করার অনুমতি বাতিল করা হবে বলে প্রশাসন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এল সালভাদোরের অভিবাসীদের হাতে সময় আছে মাত্র ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদোরে ২০০১ সালে কয়েকদফা ভয়াবহ ভুমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক কর্মসূচি ‘টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) এর আওতায় ‍অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিল ওই দেশের নাগরিকরা।

২০০১ সাল পরবর্তী প্রায় ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসে এল সালভাদোরের অবনতিশীল পরিস্থিতির বিবেচনায় তাদের জন্য টিপিএস বহাল রাখেন।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার এল সালভাদোরের অভিবাসীদের জন্য এ সুরক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, দেশটিতে সেই ২০০১ সালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এখন আর নেই। ফলে টিপিএস’ও বন্ধ হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ধার্য করেছে। এর মধ্যে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অথবা দেশটিতে থাকার বৈধ কোনো পথ খুঁজে নিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে হাইতি এবং নিকারাগুয়ার অভিবাসীদের জন্যও টিপিএস সুবিধা বাতিল করেছে।

১৯৯০ সালে টিপিএস কর্মসূচি চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

বিপর্যস্ত ওইসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই প্রবেশ করে থাকুক না কেন তাদেরকে এ কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে বসবাস করা এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হত।

টিপিএস কর্মসূচির শুরু থেকে ১০ টি দেশের তিন লাখের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হয়েছে। এর মধ্যে এল সালভাদোরের মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

Pin It