একসঙ্গে খালেদার মুক্তির আন্দোলন করবে ২০ দল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে ২০ দলীয় জোট।

gg-5a80570cb63e5

বিএনপির ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে জোটের সমর্থন দেওয়ায় জোটের শরীক দলগুলোর অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হবে।

এর ধাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকায় আগামী সপ্তাহে একটি সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে জোট। এর বাইরে প্রত্যেক জেলায় জোটগতভাবে সভা সমাবেশ করবে।

রোববার বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানী ঢাকার মতো সারাদেশে একইভাবে জোটের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি জানান।

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সোমবার মানববন্ধন, মঙ্গলবার অবস্থান এবং বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টার অনশন কর্মসূচি রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠকের অংশ হিসেবে রোববার ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দলের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে আয়োজিত এ বৈঠক বিকাল ৫টায় শুরু হয়ে সাড়ে ছয়টায় শেষ হয়।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপি যে কর্মসূচিগুলো দিয়েছে তার সাথে জোট একত্মতা ঘোষণা করেছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ২০ দলীয় পক্ষে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিএনপি তিন দিনের কর্মসূচিতে জোট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোটেরর ঐক্যকে আরো প্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টেলিফোনে বক্তব্যে রেখেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়াই হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের নেত্রী। এতে কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আর তিনি সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তিনিই সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বৈঠকে সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে যাতে হতে পারে, তার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও বৈঠকে জানানো হয় বলে জানান ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব জানান, সভায় সর্বসম্মতক্রমে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায়, একটি জাল নথির ওপর ভিত্তি করে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলায় রায় দিয়ে তাকে ৫ বছরের যে সাজা দেওয়া হয়েছে জোট তার নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে বৈঠকে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Pin It