উ. কোরিয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে জাতিসংঘে ভোট

কিন্তু চীন এবং রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব সমর্থন করবে কিনা তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কূটনীতিকরা।এ মাসের শুরুতে ষষ্ঠবারের মত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া।

এর প্রতিক্রিয়ায় গত শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির দেওয়া এ খসড়া প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নেতা কিম জং উনের সম্পত্তি জব্দ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে রোববার কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটের আগে কিম জং উনের সম্পত্তি জব্দের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে তেল নিষেধাজ্ঞা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে বস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধের মতো বিষয়গুলো প্রস্তাবনায় আছে। প্রস্তাবটি পাস হতে এর পক্ষে ৯ ভোটের প্রয়োজন পড়বে। সেইসঙ্গে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কেউ আপত্তি জানালে প্রস্তাব পাস হবে না।

এ পাঁচ স্থায়ী সদস্য হচ্ছে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। হ্যালির প্রস্তাবটি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য রাশিয়া এবং চীনের অবস্থান এখনও জানা যায়নি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার কিজু এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত বছর সেপ্টেম্বরে চালানো পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষা থেকে এবারেরটি ৯ দশমিক ৮ গুণ বেশি শক্তিশালী বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

পিয়ংইয়ং বলছে, তাদের পরীক্ষা চালানো হাইড্রোজেন বোমাটি আনবিক বোমার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার দাবি নিয়ে সন্দেহ থাকলেও দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা যে বাড়ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ায় তেল পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি নানান ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যেও লিপ্ত। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‍উত্তর কোরিয়ার উপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কোনও লাভ হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন।

বরং এ কারণে যে ‘যুদ্ধের উন্মাদনা’ শুরু হয়েছে তা বিশ্বে জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন পুতিন। একমাত্র কূটনৈতিক পথে এ সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

চীনও কূটনৈতিক উপায়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে তৈরি সংকটের সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে। চীন ও রাশিয়ার ভোট পেতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব কিছুটা শিথিলের আভাস দেন কূটনীতিকরা।

ওদিকে, গত সপ্তাহে রাশিয়া সফর করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।

তিনি পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে আনতে রাশিয়ার কাছে  উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধের অনিবার্যতার কথা তুলে ধরেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমর্থন কামনা করেন।

উত্তর কোরিয়া নতুন করে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর বিশ্ব বাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু শনিবার দেশটির ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা না চালানোয়সোমবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শান্তভাব বিরাজ করছে।

Pin It