ইসির নিজস্ব উদ্যোগে স্মার্টকার্ড তৈরি শুরু

Smart_Card1-696x398

ফ্রান্সের ঠিকাদার কোম্পানিকে বাদ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব উদ্যোগে স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও ভোটারের তথ্য সন্নিবেশের (পার্সোনালাইজেশন) কাজ শুরু হয়েছে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ রোববার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন স্মার্টকার্ড প্রিন্টের কাজ নিজেই করছে এবং আজ (রোববার) থেকেই এর কাজ শুরু হয়েছে। স্মার্টকার্ড প্রিন্টের জন্য আমাদের যে দশটি মেশিন আছে, সেগুলো দিয়ে আমাদের নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রিন্টের শুরু করেছি।”

তিনি জানান, বর্তমানে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ব্ল্যাংককার্ড রয়েছে। সেগুলো প্রিন্টের পাশাপাশি ভোটারের তথ্য সন্নিবেশের (পার্সোনালাইজেশন) কাজ চলছে।

স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও বিতরণের কাজে গতি ফেরাতেই ইসির এ উদ্যোগ। ফ্রান্সের কোম্পানি অবার্থুর টেকনোলজিসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ পার হওয়ার পর জটিলতা কাটিয়ে ইসির নিজস্ব জনবল ও আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ শুরু করে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ফ্রান্সের কোম্পানি অবার্থুর টেকনোলোজিসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুনে। নানা অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ চুক্তি আর নবায়ন করেনি।

হেলালুদ্দীন বলেন, “ওই সংস্থার সঙ্গে আমাদের টাকা পয়সার যে লেনদেন আছে, আইনি যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো একজন আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

দেশের নয় কোটি ভোটারের কাছে পর্যায়ক্রমে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দিতে কাজ করছে ইসি। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহর এলাকায় এক কোটির বেশি নাগরিকের মধ্যে বিতরণ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে প্রতি উপজেলায় বিতরণের প্রস্তুতি বিলম্বিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, “স্মার্টকার্ড বিরতণের জন্য চোখের আইরিশ এবং দশ আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজনীয় মেশিন কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক উপজেলার জন্য একটি করে আইরিশ এবং একটি করে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

যতদ্রুত সম্ভব সব এলাকায় তা সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় দেশের সকল নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে ২০১১ সালে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্প হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। ফ্রান্সের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হলেও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে ইসি চেষ্টা করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Pin It